সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পোস্টগুলি

সূরা ইখলাস লেবেল থাকা পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

সত্যের পথে… | দার্শনিকের স্রষ্টাভাবনা

আগের পর্ব: গণিতের অসীম বনাম দর্শনের অসীম | সূচীপত্র দেখুন হ্যাঁ, আমি সত্যকে জেনেছি। রাত্রির অন্ধকার চিরে ভোরের প্রথম শুভ্র রেখা যেভাবে দেখা দেয় আকাশে, তেমনিভাবে আমার খোদাকে চিনেছি। আমার স্রষ্টা, আমার পরম প্রভু। কখনো ভোর দেখেছেন, ভোর? কিভাবে পরম প্রভু পৃথিবীটাকে জাগিয়ে তোলেন? সেটা শহুরে বারান্দায় গিয়েই দেখুন কি গ্রামের ছায়াঘেরা উঠান কিংবা সমুদ্রতটে – আজ থেকে ভোরগুলো আর আগের মতন হবে না। কারণ এতদিন ভোরগুলো ছিল “প্রকৃতির জেগে ওঠা”। কিন্তু আজ থেকে ভোরগুলো হলো পরম প্রভুর ডাকে সাড়া দিয়ে পৃথিবীর ঘুম ভাঙা। কারণ আমরা চিনে নিয়েছি পরম প্রভুকে। কী বিস্ময়কর! প্রিয় পাঠক! এ আপনারই দার্শনিক যাত্রা। এটা কোনো নিছক বই নয় যে, টানা কয়েক ঘন্টা পড়ে তারপর শেলফে তুলে রাখবেন! এটা আপনার-আমার দার্শনিক যাত্রা: মহান প্রভুর দিকে যাত্রা। একারণেই বারবার বলেছি, প্রয়োজনে সময় নিন, দুই-দশদিন ভাবুন, ধ্যান করুন…। আপনার এই দার্শনিক যাত্রায় যদি নিজেকে নিরপেক্ষ, অপ্রভাবিত রাখার স্বার্থে সমাজ থেকে দূরে গিয়ে দুটো দিন কাটিয়ে আসতে হয়, তবে তা-ই করুন! সাগরতীরে দাঁড়িয়ে, কিংবা নির্জন কোনো জায়গায় প্রকৃতির কোলে বসে কল্পন...

দার্শনিকের স্রষ্টাভাবনা ও সূরা ইখলাস | দার্শনিকের স্রষ্টাভাবনা

আগের পর্ব: সত্যের পথে... | সূচীপত্র দেখুন দার্শনিকের স্রষ্টাভাবনাকে সংক্ষিপ্ততম উপায়ে প্রকাশ করেছে কুরআন, সূরা ইখলাস-এ। “ব্যাকট্র্যাকিং” পর্ব থেকে শুরু করে একটু একটু করে অগ্রসর হয়ে “একাধিক স্রষ্টা” পর্বে এসে “পরম স্রষ্টার” ব্যাপারে আমরা মোটামুটিভাবে পাঁচটি অকাট্য সিদ্ধান্তে পৌঁছেছিলাম: ১. তিনি অসৃষ্ট। অতএব, তিনি জন্মগ্রহণ করেননি। ২. তিনি সময়ের ঊর্ধ্বে। ইনফিনিটিতে তাঁর বাস। তিনিই ইনফিনিটি। ৩. তাঁর সৃষ্টিক্ষমতা আছে। তিনি শূন্য থেকে সৃষ্টি করতে পারেন। ৪. তিনি মহাবিশ্বের পরম স্রষ্টা: তিনিই সবকিছু সৃষ্টি করেছেন। ৫. তিনি সংখ্যার ঊর্ধ্বে। তিনি একক, অবিভাজ্য। আর সূরা ইখলাস সে কথাগুলিরই প্রতিধ্বনি করছে। সূরা ইখলাস বলছে যে, তিনি একক (আহাদ)। আরো বলছে যে, তিনি কারো থেকে জন্মগ্রহণ করেননি বা কাউকে জন্মও দেননি (লাম ইয়ালিদ ওয়ালাম ইয়ুলাদ)। এই দুইটি পয়েন্ট আমাদের দার্শনিক স্রষ্টাভাবনার সিদ্ধান্তের সাথে পুরোপুরি মিলে যায়। এবং বাকি দুটি যে বাক্য, তা-ও আসলে আমাদের সিদ্ধান্তগুলোরই অনুসিদ্ধান্ত: আল্লাহ অমুখাপেক্ষী (আল্লাহুস সামাদ), এবং তাঁর সমতুল্য কোনো কিছুই নেই (ওয়ালাম ইয়াকুল্লাহু কুফুয়ান আ...

সূরা ইখলাস ও নিরপেক্ষ মন | দার্শনিকের কুরআন যাত্রা

দ্বিতীয় ভাগ: দার্শনিকের কুরআন যাত্রা | | পর্ব-১: সূরা ইখলাস ও নিরপেক্ষ মন             قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ (١) اللَّهُ الصَّمَدُ (٢) لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ (٣) وَلَمْ يَكُنْ لَهُ كُفُوًا أَحَدٌ (٤) ক্বুল (বলো)! হু আল্লাহু আহাদ (তিনিই আল্লাহ, একক)! আল্লাহুস সামাদ (আল্লাহ অমুখাপেক্ষী)। লাম ইয়ালিদ ওয়ালাম ইয়ুলাদ (তিনি কাউকে জন্ম দেননি, এবং কেউ তাঁকে জন্ম দেয়নি), ওয়ালাম ইয়াকুল্লাহু কুফুয়ান আহাদ (আর কোনোকিছুই তাঁর সাথে তুলনীয় নয়)। অর্থাৎ, আল্লাহ একক, অমুখাপেক্ষী, জন্ম দেয়া-নেয়ার ঊর্ধ্বে, এবং তাঁর সাথে তুলনাযোগ্য কিছু থাকতে পারে না। আমরা যখন নিরপেক্ষভাবে পরম স্রষ্টাকে নিয়ে চিন্তা করেছি, তখন শেষে এসে এই সিদ্ধান্তেই পৌঁছেছি। এবং কী আশ্চর্য, কুরআন সে কথারই প্রতিধ্বনি করছে। সে কথাই ঘোষণা করছে। এতটুকুই একজন নিরপেক্ষ, অপ্রভাবিত দার্শনিকের পক্ষে কুরআনের উপর আস্থা সৃষ্টি হবার জন্য যথেষ্ট। এতটুকুই যথেষ্ট বোঝার জন্য যে, কুরআন পরম স্রষ্টার পক্ষ থেকে পাঠানো দিক-নির্দেশিকা: পথ-প্রদর্শক গ্রন্থ, স্রষ্টার বাণী। ...