সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পোস্টগুলি

মুহাম্মদ লেবেল থাকা পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

দার্শনিকের স্রষ্টাভাবনা ও সূরা ইখলাস | দার্শনিকের স্রষ্টাভাবনা

আগের পর্ব: সত্যের পথে... | সূচীপত্র দেখুন দার্শনিকের স্রষ্টাভাবনাকে সংক্ষিপ্ততম উপায়ে প্রকাশ করেছে কুরআন, সূরা ইখলাস-এ। “ব্যাকট্র্যাকিং” পর্ব থেকে শুরু করে একটু একটু করে অগ্রসর হয়ে “একাধিক স্রষ্টা” পর্বে এসে “পরম স্রষ্টার” ব্যাপারে আমরা মোটামুটিভাবে পাঁচটি অকাট্য সিদ্ধান্তে পৌঁছেছিলাম: ১. তিনি অসৃষ্ট। অতএব, তিনি জন্মগ্রহণ করেননি। ২. তিনি সময়ের ঊর্ধ্বে। ইনফিনিটিতে তাঁর বাস। তিনিই ইনফিনিটি। ৩. তাঁর সৃষ্টিক্ষমতা আছে। তিনি শূন্য থেকে সৃষ্টি করতে পারেন। ৪. তিনি মহাবিশ্বের পরম স্রষ্টা: তিনিই সবকিছু সৃষ্টি করেছেন। ৫. তিনি সংখ্যার ঊর্ধ্বে। তিনি একক, অবিভাজ্য। আর সূরা ইখলাস সে কথাগুলিরই প্রতিধ্বনি করছে। সূরা ইখলাস বলছে যে, তিনি একক (আহাদ)। আরো বলছে যে, তিনি কারো থেকে জন্মগ্রহণ করেননি বা কাউকে জন্মও দেননি (লাম ইয়ালিদ ওয়ালাম ইয়ুলাদ)। এই দুইটি পয়েন্ট আমাদের দার্শনিক স্রষ্টাভাবনার সিদ্ধান্তের সাথে পুরোপুরি মিলে যায়। এবং বাকি দুটি যে বাক্য, তা-ও আসলে আমাদের সিদ্ধান্তগুলোরই অনুসিদ্ধান্ত: আল্লাহ অমুখাপেক্ষী (আল্লাহুস সামাদ), এবং তাঁর সমতুল্য কোনো কিছুই নেই (ওয়ালাম ইয়াকুল্লাহু কুফুয়ান আ...

কুরআন কি যুক্তিবাদী? | দার্শনিকের কুরআন যাত্রা

আগের পর্ব: কুরআনের দর্শন | সূচীপত্র দেখুন অনেকে বলে: “দেখো, ধর্ম হলো বিশ্বাসের বিষয়, এখানে যুক্তি খুঁজলে হবে না।” দুঃখজনক ব্যাপার হলো, প্রচলিত প্রায় সকল ধর্মের অনুসারীর মাঝেই কমবেশি এই ধারণা প্রচলিত আছে। অথচ যুক্তি হলো দর্শনের প্রধান হাতিয়ার। যুক্তিতর্ক না করলে আমরা কিভাবে দার্শনিক স্রষ্টাভাবনা করতাম? আর কিভাবেই বা পরম স্রষ্টাকে চিনতাম? যদি যুক্তিতর্ক না-ই করব, তাহলে তো সবাই যার যার ধর্মের মধ্যেই থেকে যেত; এক ধর্ম থেকে আরেক ধর্মে আসতে পারত না। কিংবা নাস্তিকরাও আস্তিক হতে পারত না। একজন হিন্দু যদি বলে যে, দেখো এই মূর্তি আমার ভগবান, এটা আমার বিশ্বাস, অতএব এটা নিয়ে কোনো প্রশ্ন করা যাবে না। একইভাবে খ্রিষ্টান যদি বলে যে, দেখো, যীশু হলো খোদার পুত্র, ব্যস, এটা আমার বিশ্বাস; স্রষ্টার পুত্র হওয়া সম্ভব কিনা, এই নিয়ে যুক্তিতর্ক আমি করব না, কারণ ধর্ম হলো বিশ্বাসের বিষয়, যুক্তির বিষয় নয়। একইভাবে মুসলিম যদি বলে যে দেখো, কুরআনকে যুক্তি দিয়ে যাচাই করলে হবে না, তোমাকে এটা বিশ্বাস করতে হবে। আর নাস্তিক যদি বলে যে, দেখো, বিজ্ঞানীরা যা বলবে, সেটাই বিশ্বাস করতে হবে। এইভাবে যদি সবাই গোঁড়ামি করে, তাহলে...

বিশ্বাসীদের মাঝে ঐক্য নেই কেন? | যুক্তির কাঠগড়ায় ইসলাম

তৃতীয় ভাগ: যুক্তির কাঠগড়ায় ইসলাম || পর্ব-১: বিশ্বাসীদের মাঝে ঐক্য নেই কেন? ইসলাম নিয়ে নাস্তিকদের একটা সাধারণ অভিযোগ হলো, তোমাদের নিজেদের মাঝে ঐক্য নেই কেন? মুসলিমদের মাঝে শিয়া-সুন্নি বিভেদ কেন? কিংবা, Abrahamic religion অর্থাৎ ইহুদী ধর্ম, খ্রিষ্টধর্ম ও ইসলাম ধর্মের মাঝে ঐক্য নেই কেন? পাঠক! কথা তো সত্য। অস্বীকার করার উপায় নেই যে, মুসলমানদের মাঝে বহু দলাদলি বিভক্তি রয়েছে। বিভক্তি রয়েছে খ্রিষ্টনাদের নিজেদের মাঝেও। আর ইহুদি, খ্রিষ্টান ও মুসলমান পরস্পর মারামারি করে আসছে বহুকাল যাবৎ। অথচ সবাই-ই এক আল্লাহর অনুসারী! এক আল্লাহরই প্রেরিত তিনজন নবীর অনুসারী। তাহলে তাদের মাঝে ঐক্য নেই কেন? সংক্ষেপে বললে গেলে উত্তরে বলতে হয়, যেকোনো সমাজের অধিকাংশ মানুষই বিশ্বাস (যান্) এর স্তরে থাকে। খুব কমসংখ্যক মানুষই জ্ঞান (ইলম) এর স্তরে থাকে, এবং তারও মাঝে খুব কম সংখ্যকই ঈমান (প্রশান্তি ও নিরাপত্তা) অর্জন করতে পারে। প্রথমে একদল মানুষ জ্ঞান দিয়ে বুঝে শুনে সত্যকে (হক্ব) গ্রহণ করে। কিন্তু পরবর্তীতে তাদের বংশধরদের কাছে সেটা হয়ে যায় “বাপ-দাদার ধর্ম”। আর বাপ-দাদার ধর্মকে মানুষ ‘বিশ্বাস’ করে আঁকড়ে...