সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পোস্টগুলি

ঈমান লেবেল থাকা পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

কুরআন কি যুক্তিবাদী? | দার্শনিকের কুরআন যাত্রা

আগের পর্ব: কুরআনের দর্শন | সূচীপত্র দেখুন অনেকে বলে: “দেখো, ধর্ম হলো বিশ্বাসের বিষয়, এখানে যুক্তি খুঁজলে হবে না।” দুঃখজনক ব্যাপার হলো, প্রচলিত প্রায় সকল ধর্মের অনুসারীর মাঝেই কমবেশি এই ধারণা প্রচলিত আছে। অথচ যুক্তি হলো দর্শনের প্রধান হাতিয়ার। যুক্তিতর্ক না করলে আমরা কিভাবে দার্শনিক স্রষ্টাভাবনা করতাম? আর কিভাবেই বা পরম স্রষ্টাকে চিনতাম? যদি যুক্তিতর্ক না-ই করব, তাহলে তো সবাই যার যার ধর্মের মধ্যেই থেকে যেত; এক ধর্ম থেকে আরেক ধর্মে আসতে পারত না। কিংবা নাস্তিকরাও আস্তিক হতে পারত না। একজন হিন্দু যদি বলে যে, দেখো এই মূর্তি আমার ভগবান, এটা আমার বিশ্বাস, অতএব এটা নিয়ে কোনো প্রশ্ন করা যাবে না। একইভাবে খ্রিষ্টান যদি বলে যে, দেখো, যীশু হলো খোদার পুত্র, ব্যস, এটা আমার বিশ্বাস; স্রষ্টার পুত্র হওয়া সম্ভব কিনা, এই নিয়ে যুক্তিতর্ক আমি করব না, কারণ ধর্ম হলো বিশ্বাসের বিষয়, যুক্তির বিষয় নয়। একইভাবে মুসলিম যদি বলে যে দেখো, কুরআনকে যুক্তি দিয়ে যাচাই করলে হবে না, তোমাকে এটা বিশ্বাস করতে হবে। আর নাস্তিক যদি বলে যে, দেখো, বিজ্ঞানীরা যা বলবে, সেটাই বিশ্বাস করতে হবে। এইভাবে যদি সবাই গোঁড়ামি করে, তাহলে...

প্রসঙ্গ: ঈমান অর্থ কি বিশ্বাস? | দার্শনিকের কুরআন যাত্রা

আগের পর্ব: কুরআন কি যুক্তিবাদী? | সূচীপত্র দেখুন বিশ্বাস একটি বাংলা শব্দ। এই প্রসঙ্গে পাঠক, আপনার কাছে একটি প্রশ্ন করতে চাই: বিশ্বাস, ধারণা, অনুমান, কল্পনা – সবগুলোর অর্থ কি একই, নাকি সূক্ষ্ম পার্থক্য আছে? “আমি আল্লাহতে বিশ্বাস করি”, “আমি আল্লাহকে ধারণা করি”, “আমি আল্লাহকে অনুমান করি”, “আমি আল্লাহকে কল্পনা করি” – চারটা কথা কি একই অর্থ বুঝায়? নিশ্চয়ই না! একইভাবে “আমি আল্লাহকে চিনি” আর “আমি আল্লাহকে জানি” – দুইটা কথা কি ১০০% একই অর্থ বুঝায়? নিশ্চয়ই না। তাহলে পাঠক, ভাষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জিনিস। আমরা কোন ক্ষেত্রে কোন শব্দ ব্যবহার করব, তা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অতএব, এই পর্যায়ে এসে আমরা একটুখানি ভাষার চর্চা করব এবং দেখব যে, বিভিন্ন শব্দের উপযুক্ত ব্যবহার কীরকম। তুমি পরীক্ষায় ভালো করবে, এই কল্পনা আমি করি বসে বসে (কল্পনা = শুধুই আশা, বাস্তবতার সাথে সম্পর্ক নাও থাকতে পারে)। আমার ধারণা তুমি পরীক্ষায় ভালো করবে (ধারণা = ছাত্রকে স্বল্প পর্যবেক্ষণ করে পাওয়া অনিশ্চিত সিদ্ধান্ত)। আমার বিশ্বাস তুমি পরীক্ষায় ভালো করবে (বিশ্বাস = ছাত্রকে ভালোমত পর্যবেক্ষণ করে সৃষ্টি হওয়া আস্থা + আশা)। আমি জা...

বিশ্বাস, জ্ঞান ও ঈমান | দার্শনিকের কুরআন যাত্রা

আগের পর্ব: প্রসঙ্গ: ঈমান অর্থ কি বিশ্বাস? | সূচীপত্র দেখুন পাঠক! হয়ত ভাবছেন যে, ঠিক আছে বুঝলাম আল্লাহকে ‘বিশ্বাস করি’ বলাটা উপযুক্ত হয় না। কারণ আল্লাহর অস্তিত্ব বিশ্বাসের চেয়েও উপরের স্তরের: তাঁর অস্তিত্ব আছে, এটা আমরা ‘জানি’, ঠিক যেভাবে ‘জানি’ একজন নারীর গর্ভে আমার জন্ম হয়েছিলো। কিন্তু তাহলে ঈমান শব্দের অর্থ কী? কুরআন থেকেই সেটার উত্তর দেব ইনশাআল্লাহ। তার আগে একটা ছোট উদাহরণ দেই। ১. বিশ্বাসের স্তর আপনার বয়স ৫ বছর। আপনাকে শিখানো হয়েছে যে, এই মহিলাটা তোমার মা। তুমি এই মহিলার কথামতো চলবে। আপনি বিশ্বাস করতে শুরু করলেন, “এটা আমার মা, মায়ের কথা মেনে চলতে হবে।” (পক্ষান্তরে আপনাকে যদি বলা হত এই লোকটার পেটের ভিতর থেকে তুমি বের হয়েছ, এটা তোমার মা, তাহলে কিন্তু ৫ বছর বয়সে আপনি সেটাই ‘বিশ্বাস’ করে নিতেন।) যাহোক, আপনি এখন ‘বিশ্বাস’ করেন যে এটা আপনার মা, তাকে মেনে চলতে হবে। কিন্তু কাজের বেলায় তেলাপোকা খাওয়া, ইলেকট্রিক সকেটে আঙ্গুল ঢুকানো, চুলায় হাত দেওয়া, এইসব করেন। ২. জ্ঞানের স্তর আপনার বয়স ১৮ বছর। আপনি দুনিয়ার অনেক কিছু দেখেছেন, পর্যবেক্ষণ করেছেন, শিখেছেন। আপনি পর্যবেক্ষণ করেছেন ...

তৃতীয় ভাগের পূর্বকথা | দার্শনিকের কুরআন যাত্রা

আগের পর্ব: বিশ্বাস, জ্ঞান ও ঈমান | সূচীপত্র দেখুন প্রিয় পাঠক, এবার “ঈমান ও বিশ্বাস” সংক্রান্ত আলোচনাটা উদারমনে আরো একবার চোখ বুলিয়ে আসুন। আসুন চিন্তা করি, আমরা কোন স্তরে আছি? বিশ্বাস, জ্ঞান, নাকি ঈমান? চারিদিকে তাকিয়ে দেখুন, কত অজস্র মানুষ বলছে, “ধর্ম হলো বিশ্বাসের বিষয়, এখানে কোনো যুক্তি চলবে না”। অর্থাৎ, সমাজের মেজরিটি মানুষই বাপ-দাদার দেখাদেখি ধর্মপালন করে, এবং তাদের এসব ধর্মচর্চার কোনো জ্ঞানগত ভিত্তি নেই। আর জ্ঞান না থাকায় তারা হক্ব তথা সত্যকে খুঁজে পায় না। কিন্তু সকল প্রশংসা মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের, যিনি আমাদেরকে বিশ্বাসের স্তর পেরিয়ে জ্ঞানের স্তরে আসার তাওফিক দিয়েছেন। যেকারণে আজ আমরা উদার হৃদয়ে মুক্তমনে লিখছি: স্রষ্টাভাবনা। পাঠক, তাহলে দেখুন, অধিকাংশ মানুষই ধর্মকে অন্ধবিশ্বাসে আঁকড়ে ধরে, সেটা সত্য কি মিথ্যা তা তারা যাচাই করে না, জানে না, জানতে চায়ও না। খুব অল্পকিছু মানুষই জ্ঞানের স্তরে ওঠার সাহস করে: নিজের বাপ-দাদার ধর্মকে প্রশ্ন করা শেখে। নিরপেক্ষ, অপ্রভাবিত মনে স্রষ্টাভাবনা করার সাহস করে। আপনি-আমি সেই অল্পকিছু মানুষেরই অন্তর্ভুক্ত, আলহামদুলিল্লাহ। যেকারণে আজকে...

বিশ্বাসীদের মাঝে ঐক্য নেই কেন? | যুক্তির কাঠগড়ায় ইসলাম

তৃতীয় ভাগ: যুক্তির কাঠগড়ায় ইসলাম || পর্ব-১: বিশ্বাসীদের মাঝে ঐক্য নেই কেন? ইসলাম নিয়ে নাস্তিকদের একটা সাধারণ অভিযোগ হলো, তোমাদের নিজেদের মাঝে ঐক্য নেই কেন? মুসলিমদের মাঝে শিয়া-সুন্নি বিভেদ কেন? কিংবা, Abrahamic religion অর্থাৎ ইহুদী ধর্ম, খ্রিষ্টধর্ম ও ইসলাম ধর্মের মাঝে ঐক্য নেই কেন? পাঠক! কথা তো সত্য। অস্বীকার করার উপায় নেই যে, মুসলমানদের মাঝে বহু দলাদলি বিভক্তি রয়েছে। বিভক্তি রয়েছে খ্রিষ্টনাদের নিজেদের মাঝেও। আর ইহুদি, খ্রিষ্টান ও মুসলমান পরস্পর মারামারি করে আসছে বহুকাল যাবৎ। অথচ সবাই-ই এক আল্লাহর অনুসারী! এক আল্লাহরই প্রেরিত তিনজন নবীর অনুসারী। তাহলে তাদের মাঝে ঐক্য নেই কেন? সংক্ষেপে বললে গেলে উত্তরে বলতে হয়, যেকোনো সমাজের অধিকাংশ মানুষই বিশ্বাস (যান্) এর স্তরে থাকে। খুব কমসংখ্যক মানুষই জ্ঞান (ইলম) এর স্তরে থাকে, এবং তারও মাঝে খুব কম সংখ্যকই ঈমান (প্রশান্তি ও নিরাপত্তা) অর্জন করতে পারে। প্রথমে একদল মানুষ জ্ঞান দিয়ে বুঝে শুনে সত্যকে (হক্ব) গ্রহণ করে। কিন্তু পরবর্তীতে তাদের বংশধরদের কাছে সেটা হয়ে যায় “বাপ-দাদার ধর্ম”। আর বাপ-দাদার ধর্মকে মানুষ ‘বিশ্বাস’ করে আঁকড়ে...