আগের পর্ব: বিরতি | সূচীপত্র দেখুন
প্রথম ভাগ: দার্শনিকের স্রষ্টাভাবনা
স্রষ্টার অস্তিত্ব প্রমাণের উদ্দেশ্য নিয়ে যাত্রা শুরু করা হয়নি। বরং “উৎসের সন্ধান করা মানুষের জন্মগত বৈশিষ্ট্য” – এই বাক্যকে ভিত্তি করে দার্শনিক উপায় পথ হাঁটতে শুরু করে “পথ হাঁটলেই পথের সন্ধান মেলে” দর্শনে বিশ্বাস করে এগিয়ে গিয়েছি। অতঃপর পেয়েছি পরম প্রমুক্ত সত্তা, first cause, true infinity পরম স্রষ্টাকে। এরপর সূরা ইখলাসে “দার্শনিক স্রষ্টাভাবনার” প্রতিফলন দেখতে পেয়ে উৎসুক দার্শনিকের ন্যায় কুরআনের অভ্যন্তরে “দার্শনিক যাত্রা” করেছি।
দ্বিতীয় ভাগ: দার্শনিকের কুরআন যাত্রা
এই পর্যায়ে কুরআনের বিভিন্ন দর্শন ও কুরআনের উপস্থাপিত বিভিন্ন যুক্তি নিয়ে পর্যালোচনা করেছি। এবং দেখেছি যে, কুরআন পরম স্রষ্টার অস্তিত্বের ব্যাপারে অকাট্য যুক্তি প্রদান করে, প্রমাণ করে কুরআনের সংরক্ষণশীলতা, এবং বলে যে, বিচারবুদ্ধি প্রয়োগ না করলে ঈমানই অর্জন হবে না। অর্থাৎ, কুরআন আমাদেরকে যুক্তি তো ত্যাগ করতে বলেই না, বরং বিচারবুদ্ধি তথা যুক্তি ও দর্শনের চর্চাকে বাধ্যতামূলক করে দেয়। একইসাথে আমরা দেখেছি যে, “ঈমান অর্থ বিশ্বাস” এই ভুল অনুবাদটি একদিকে নাস্তিকদেরকে যেমন সত্যধর্ম ইসলাম থেকে দূরে সরিয়ে রেখেছে, অপরদিকে মুসলিমদের ঈমান অর্জনের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তৃতীয় ভাগ: যুক্তির কাঠগড়ায় ইসলাম
তৃতীয় ভাগে আমরা দেখেছি যে, যুক্তি হলো এমন এক জিনিস, যা অন্ধবিশ্বাসের গোড়ায় আঘাত করে। অতএব, স্রষ্টভাবনা করতে গিয়ে আমরা যখন যুক্তি ও দর্শন মেনে অগ্রসর হয়েছি, তা একদিকে যেমন নাস্তিকতার ফ্যালাসির প্রাসাদকে ভেঙে দিয়েছে, অপরদিকে তেমনি প্রচলিত ধর্মবিশ্বাসের অনেক ভ্রান্ত ধারণার গোড়ায় আঘাত করেছে। কিন্তু যেহেতু কুরআনের দর্শন হলো নিজের বিরুদ্ধে গিয়ে হলেও সত্যকে আঁকড়ে ধরা, তাই আমরা অনেক ক্ষেত্রে অপছন্দ হলেও সত্যকে মেনে নিয়েছি। যুক্তিবিদ্যার সংজ্ঞায়ন, প্রমাণের অভাব, ফ্যালাসি ইত্যাদি বিভিন্ন বিষয় ও দর্শনের First Cause নিয়ে আলোচনাও এ পর্বে আমরা করেছি। বিজ্ঞান দ্বারা ধর্মকে জাস্টিফাই করার মৌলিক ত্রুটি দেখিয়ে দিয়েছি, এবং ভাগ্য প্রশ্নের কয়েকটি ভুল উত্তরের যুক্তিখণ্ডন করেছি।
চতুর্থ ভাগ: অনন্তের পথে…
থার্ড অবজার্ভার প্রবলেমের মাধ্যমে ভাগ্যপ্রশ্নের উত্তর দিয়েছি। আমাদের সমস্ত আলোচনাকে সংক্ষেপে প্রকাশ করেছে সূরা ইখলাসের প্রথম তিন বাক্য, এবং শেষ বাক্য আমাদেরকে ফানাফিল্লাহ তথা পরম স্রষ্টার পারস্পেক্টিভ অর্জনের দিকে আহবান করেছে। সময় কী জিনিস, টাইম ট্র্যাভেল সম্ভব কিনা, তাক্বদীর শব্দের প্রকৃত ব্যাখ্যা, কার্যকারণবিধি, কুরআনে বর্ণিত “বিজ্ঞান/ কার্যকারণবিধি বিরোধী বিষয়”, আল্লাহ কেন পথভ্রষ্ট করেন ইত্যাদি বিষয়েও আলোচনা করেছি। খোদার ন্যায়বিচার সম্পর্কেও আলোচনা করেছি যে, প্রচলিত ধার্মিক হোক বা না হোক, পরম স্রষ্টার ধারণা মানুষের মাঝে জন্মগত, এবং পরকালে উত্তীর্ণ হবার জন্য প্রয়োজনীয় গাইডেন্স মানুষের মাঝে জন্মগতভাবেই আছে। বিভিন্ন মানুষ বিভিন্নভাবে ইসলামের সংস্পর্শে আসতে পারে, কিন্তু “যে যেভাবেই ইসলামের কাছে আসুক না কেন, স্রষ্টার অস্তিত্ব থেকে শুরু করে ঐশী কিতাব পর্যন্ত সমস্ত বিষয়ই বিচারবুদ্ধি প্রয়োগ করে যুক্তি ও দর্শনের মানদণ্ডে যাচাই করতে হবে।”
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
আপনার মতামত জানান...