আগের পর্ব: খোদার ন্যায়বিচার | সূচীপত্র দেখুন
প্রিয় পাঠক,
স্রষ্টার অস্তিত্ব সংক্রান্ত মৌলিক আলোচনা অল্প কয়েক ঘন্টাতেই শেষ হয়ে যায়। কিন্তু পরম স্রষ্টার অস্তিত্ব প্রমাণের পর যখন কুরআনে আসা যায়, তখন ইসলামগৃহের ভিতরে আলোচনার বিষয়বস্তুর শেষ থাকে না। ইসলামের অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন বিষয়ে ইন্টেলেকচুয়াল আলোচনার তাই কোনো শেষ নেই। “ঐশী কিতাবের অপরিহার্য বৈশিষ্ট্য [QR],
নবীর অপরিহার্য গুণাবলী [QR],
স্রষ্টার অপরিহার্য গুণাবলীর” [QR],
মত মৌলিক বিষয়গুলি আলাদা আলোচনার দাবী রাখে। এবং সেখানেই শেষ হয় না। সেগুলি ইসলাম-গৃহের ভিত্তি মাত্র, এরপর উপরে উঠতে থাকলে যেন একটা প্রকাণ্ড বটবৃক্ষের কাণ্ড থেকে শাখা-প্রশাখায় উপনীত হতে হয়। সেসব বিস্তারিত বিষয়াবলীর সব যেমন একদিকে আমার জানাও নেই, তেমনি এক মলাটের ভিতরে তাকে স্থান দেয়াও সমীচিত হবে না। এ পর্যন্ত আমি বইটিকে যেভাবে সাজিয়েছি, তাতে মৌলিক বিষয়ের আলোচনার ফাঁকে ফাঁকে নাস্তিকদের প্রচলিত বিভিন্ন burning question এর জবাব দেয়ার চেষ্টা করেছি। একইসাথে মুসলমানদের মাঝে প্রচলিত কিছু ভুল ধারণার দিকেও আলোকপাত করেছি। আমি আশা করি যে, এই মৌলিক বিষয়গুলি যদি পাঠক আত্মস্থ করেন, তবে বাকী পথ তিনি নিজেই সুন্দরভাবে চলতে পারবেন, ইনশাআল্লাহ।
তবে একইসাথে জানি যে, ইন্টেলেকচুয়াল রিলিজিয়ন (intellectual religion-বুদ্ধিবৃত্তিক ধর্ম) হলো একটি প্রাণহীন, শুষ্ক বিষয়। আপনি যুক্তি দিয়ে ইসলামকে সত্য প্রতিষ্ঠা করলেন, একজন নাস্তিক তা মেনেও নিলো, কিন্তু তারপর? আপনি প্রচলিত বিভিন্ন ভ্রান্ত ধারণা থেকে উঠে এসে শুদ্ধতর মুসলিম হলেন, কিন্তু তারপর? সেই “তারপর” এর পথের সূত্রটা পাঠককে দেখিয়ে দিয়ে যেতে চাই, যেন এই বইয়ের শেষ পাতাটি উল্টানোয় বইটি বন্ধ না হয়, বরং একটি নতুন যাত্রার সূচনা হয়। পরবর্তী পৃষ্ঠায় এযাবত আলোচিত ইন্টেলেকচুয়াল বিষয়গুলির একটি রিভিউ দেয়া হলো, এবং তার পরেই আমরা অনন্তের যাত্রার জন্যে বৃত্তের বাইরে পা রাখব, ইনশাআল্লাহ।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
আপনার মতামত জানান...